টঙ্গীতে স্ত্রীর প্রতি কটূক্তির জেরে যুবককে শ্বাসরোধে হত্যা, আট টুকরা করে ছড়িয়ে ফেলার অভিযোগে চারজন গ্রেপ্তার

টঙ্গীতে স্ত্রীর প্রতি কটূক্তির জেরে যুবককে শ্বাসরোধে হত্যা, আট টুকরা করে ছড়িয়ে ফেলার অভিযোগে চারজন গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার বনমালা ও স্টেশন রোড এলাকায় ৩৬ বছরের মো. অলি মিয়ার খণ্ডিত দেহ parts উদ্ধার করেছে পুলিশ। র‌্যাব-১ জানায়, ২২ নভেম্বর ভোরে স্ত্রীর প্রতি কটূক্তির ‘অপমান’ ও আগের বিরোধের জের ধরে বাধ্যতামূলক ছয় হাত-পা বেঁধে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন প্রতিবেশী আপেল মাহমুদ, তার স্ত্রী শাওন বেগম ও সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন রনি। প্রমাণ লোপাটে লাশ আট টুকরা করে ব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তারা; মাথা লুকানো হয় একটি বাসার টয়লেটের কুঠুরিতে। ২৪ ও ২৫ নভেম্বর বিভিন্ন সময়ে দেহের অংশ উদ্ধার হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও গাজীপুর থেকে শনিবার বিকেলে চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহতের স্ত্রী শাহানা আক্তারের করা হত্যা মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ঘটনাপ্রবাহ

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২২ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আপেল ও রনি অলিকে রেললাইনে নিয়ে হত্যার সুযোগ খুঁজেছিলেন। দীর্ঘ সময় ট্রেন না আসায় তাকে আপেলের ভাড়া বাসায় ফেরত আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিছানায় ফেলে বেল্ট দিয়ে হাত-পা বেঁধে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। পরদিন ছুরি, কালো পলিথিন ও স্কচটেপ কিনে এনে লাশটি আট ভাগে কাটা হয়। ২৪ নভেম্বর সকালে স্টেশন রোডে একটি ব্যাগে দেহের বেশিরভাগ অংশ ফেলে যান অভিযুক্তরা; ২৫ নভেম্বর বিকেলে টয়লেটের কুঠুরিতে রাখা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রেক্ষাপট

নিহত অলি মিয়া নরসিংদীর করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় বাসের সহকারী ও খুচরা পণ্য বিক্রেতা। এলাকা সূত্রে র‌্যাব বলছে, অলির সঙ্গে আপেল ও রনির দীর্ঘদিনের আলাপ ছিল। কয়েক বছর আগে স্থানীয় এক ঝগড়ায় অলি লোকজন দিয়ে রনিকে মারধর করান, যা থেকে ক্ষোভ জমে। সর্বশেষ আপেলের স্ত্রী শাওনের চরিত্র নিয়ে অলি কটূক্তি করলে বিষয়টি ‘অপমান’ হিসেবে নেন অভিযুক্তরা। পরিকল্পিতভাবেই তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যার ছক কষা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• দেহের অংশ: ৮টি

• গ্রেপ্তার: ৪ জন (আপেল মাহমুদ, শাওন বেগম, সাজ্জাদ হোসেন রনি, বাপ্পি)

• উদ্ধার স্থান: ২টি (স্টেশন রোড, বনমালা রোডের একটি বাসা)

• জব্দ আলামত: ৩টি মোবাইল, ৩টি সিম, ১৫০ টাকা, ব্যবহৃত ছুরি ও পলিথিন

• মামলার ধারা: দণ্ডবিধি ৩০২ ও ২০১ (হত্যা ও প্রমাণ নষ্ট)

প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে টঙ্গী এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ ও আতঙ্ক উভয়ই প্রকাশ করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এত নৃশংস কায়দায় লাশ গুমের চেষ্টা আমাদের এলাকায় আগে দেখিনি।’ মানবাধিকারকর্মী সালমা আক্তার মনে করেন, ‘তুচ্ছ কথাকাটাকাটিকে সহিংসতায় গড়িয়ে যাওয়া সামাজিক সহনশীলতার ঘাটতির ইঙ্গিত।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার গ্রাফিক বিবরণ ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে ছবির সত্যতা না যাচাই করে শেয়ার করেছেন, যা অনলাইনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে পুলিশের সাইবার ইউনিট।

পরবর্তী পদক্ষেপ

র‌্যাব বলছে, গ্রেপ্তার তিনজনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়া হবে। হত্যায় ব্যবহৃত বেল্ট, বালিশ ও ছুরি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। টয়লেট কুঠুরিসহ বাসাটির মালিকের জবানবন্দিও নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা অলির মোবাইলের কললিস্ট ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও কেউ জড়িত কি না তা যাচাই করবেন। আদালত থেকে রিমান্ড মঞ্জুর পেলে সন্দেহভাজন বাপ্পির ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

More From Author

দুই ঘণ্টা দেরির জের, জান আলী হাটে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল পর্যটক ও প্রবাল এক্সপ্রেস

কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে ৯ বালুমহালের ইজারা স্থগিত, তিন মাসে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিতে নির্দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *