জাপানের কুমামোতোতে রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্যা, ৩০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে নির্দেশ
দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে সোমবার ভোর থেকে টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) মাত্র ছয় ঘণ্টায় তামানা শহরে ৩৭ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে, যা অঞ্চলটিতে নজিরবিহীন। জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, পরিস্থিতি ‘প্রাণঘাতী পর্যায়ে’ পৌঁছানোয় ৩০ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে ঘর ছেড়ে উঁচু বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে; এর মধ্যে কুমামোতোর ৩ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ সর্বোচ্চ স্তরের জরুরি সতর্কতার মুখোমুখি। ভূমিধসে একজন নিখোঁজ ও কয়েকজন আটকে পড়েছেন, নদীর স্রোতে ভেসে গেছেন আরও দুইজন।
প্রেক্ষাপট
কুমামোতো ও পাশের ফুকুওকাসহ কিউশু দ্বীপ বরাবর প্রতিবছরই টাইফুন মৌসুমে ভারী বর্ষণ দেখা যায়, তবে এ বছরের বৃষ্টিপাত অতীত রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতর বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখে, ফলে অল্প সময়ে প্রবল বৃষ্টি নামছে—যা টেকিওভিত্তিক আবহাওয়া গবেষকরা ‘মেগা রেইন ইভেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ২০২0 সালেও একই প্রিফেকচারে ৬৪ জনের প্রাণকেড়ে বন্যা হয়েছিল।
প্রতিক্রিয়া
জাপানের দমকল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কুমামোতো, ফুকুওকা ও কাগোশিমায় ১,৫০০-এর বেশি পুলিশ, সৈন্য ও দমকল কর্মী মোতায়েন করেছে। কুমামোতো শহরের মুখপাত্র জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নৌকা ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে; ত্রাণশিবিরগুলোতে খাবার, পানি ও মোবাইল চার্জিং স্টেশন রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা টোকিও থেকে জরুরি কোয়ার্ডিনেশন সেল পরিচালনা করছেন এবং পরিস্থিতি ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
কুও শিনতаро, কিউশু ইউনিভার্সিটির হাইড্রোলজি অধ্যাপক, রয়টার্সকে বলেন, পাহাড়ি নদীগুলো সরু ও খাড়া হওয়ায় মুহূর্তেই প্লাবন সৃষ্টি করে। তিনি ভবিষ্যতে আরও ঘ频 ঘূর্ণিঝড় ও ‘ক্লাউড বার্স্ট’ ঘটনার আশঙ্কা করছেন, যা বাঁধ ও সেতুগুলোর টেকসই নকশার তাগিদ বাড়িয়েছে। জেএমএর প্রধান পূর্বাভাসক মাসাতো কাতো টেলিভিশনে জানান, অব্যাহত ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় ‘ঝুঁকিমুক্ত বলে মনে হলেও’ বাসিন্দাদের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এরপর কী
আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কুমামোতো ও আশেপাশের অঞ্চলে আরও ২০০–২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। নদীর পানির চাপ বজায় থাকায় আরও সেতু বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিদ্যুৎ কোম্পানি কিউশু ইলেকট্রিক জানিয়েছে, পাহাড়ি গ্রিড এলাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ১২,০০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই; মেরামতে আবহাওয়া উন্নতি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে জরুরি গৃহমেরামত ও ক্ষয়ক্ষতি বাবদ অগ্রিম সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• ৬ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত: ৩৭ সেন্টিমিটার (তামানা, কুমামোতো)
• সরিয়ে যেতে পরামর্শ: ৩০ লাখ বাসিন্দা
• সর্বোচ্চ সতর্কতায়: ৩.৮৪ লাখ মানুষ
• নিখোঁজ: কমপক্ষে ৩ জন
• বিদ্যুৎবিহীন বাড়ি: প্রায় ১২,০০০
• উদ্ধার ও ত্রাণকর্মী: ১,৫০০+
• ভূমিধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: ২০টিরও বেশি (সরকারি তথ্য)

