গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড: তিনজনসহ মোট সাত গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন গতি
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটায় দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর স্টাফ রিপোর্টার মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার গভীর রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। প্রথম আলো ও রাইজিংবিডি জানায়, ওই তিনজনকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। এর আগে এক দম্পতিসহ চারজনকে ধরা হয়েছিল। এ নিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত তিন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে; পুলিশ বলছে, তারা সক্রিয় ছিনতাইচক্রের সদস্য। নিহত তুহিনের বড় ভাই সেলিম শুক্রবার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
পটভূমি
পুলিশের ভাষ্য মতে, বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ থেকে ছয়জন ধারালো অস্ত্র হাতে তুহিনকে ধাওয়া করে। তিনি দৌড়ে ঈদগাঁ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তুহিন ওই সময় এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের ভিডিও তুলছিলেন বলে রাইজিংবিডি জানিয়েছে। পাশের এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলার দৃশ্য ধরা পড়ে, যা তদন্তে মূল সূত্র হয়ে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• গ্রেপ্তার: ৭ জন (নতুন ৩, আগের ৪)
• প্রধান সন্দেহভাজনের বয়স: ২৩ থেকে ৩২ বছর (ফয়সাল, শাহ জামাল, সুমন প্রমুখ)
• হামলাকারীর সংখ্যা: ৫–৬ জন (সিসিটিভি থেকে অনুমান)
• ঘটনার সময়: বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা
• মামলা: একটি, বাদী নিহতের বড় ভাই সেলিম
• নিহত সাংবাদিকের বয়স: ৩৮ বছর
• পেশাগত পরিচয়: ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিক্রিয়া
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা শুক্রবার গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন এফবিজেএ এক বিবৃতিতে (সূত্র: নয়া দিগন্ত) "বর্বরোচিত" হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংগঠনিক ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন—‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোথায়?’ অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান সাংবাদিকদের জানান, “কোনো তথ্য গোপন করা হবে না, দোষীদের দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙা না গেলে হামলা কমবে না।” টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবিসি-কে দেয়া সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে সরকারের গণমাধ্যম নীতি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা এই ঘটনার পর আরও জোরালো হলো। তিনি বলেন, “অপরাধীরা দ্রুত সাজা না পেলে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকরা আতঙ্কে পড়বেন, ফলেও তথ্য প্রবাহ ব্যাহত হবে।”
এরপর কী
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত দল সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কললিস্ট ও স্থানীয় সূত্র ব্যবহার করে বাকি সন্দেহভাজনদের খুঁজছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষ দলকে ঘটনাটি মনিটর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচারের ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক নিরাপত্তা গাইডলাইন হালনাগাদ করতে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করছে।

