গাজীপুরে পদ্মা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল চলাচল স্থবির
শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশনে ঢাকা-গামী পদ্মা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ায় রাজধানীর সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। স্টেশন মাস্টার আবুল খায়ের চৌধুরী রাইজিংবিডিকে জানান, পয়েন্ট পরিবর্তনের ভুলে ব্রডগেজ থেকে মিটারগেজ লাইনে ঢুকে ইঞ্জিনটি ট্র্যাক থেকে নেমে পড়ে। এতে ঢাকামুখী সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর ও রংপুরের ট্রেনসহ অন্তত ১০টি যাত্রী ও মালগাড়ি বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে যায়। রাত অবধি কোনো হতাহতের খবর না মিললেও দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী। রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল টাঙ্গাইল ও ঢাকার কামালাপুর থেকে হেভি লিফট জ্যাক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে; লাইন সচল হতে ভোর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই দিনে ভারতের ঝাড়খণ্ডে দুই মালগাড়ির ২০টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসায় আঞ্চলিক রেল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বেড়েছে।
মূল তথ্য
রেলওয়ে সূত্র অনুযায়ী, পদ্মা এক্সপ্রেস (রাজশাহী-ঢাকা) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জয়দেবপুর প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগ মুহূর্তে ভুল পয়েন্টে চলে যায়। ব্রডগেজ ইঞ্জিন মিটারগেজ লাইনে ওঠার সময় ভারসাম্য হারিয়ে সামনের দুই জোড়া চাকা ট্র্যাক থেকে বেরিয়ে যায়। ইঞ্জিন থেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ব্রেক কষায় বগিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে পেছনে থাকা আরো কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন—নিলসাগর, ধূমকেতু, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস—জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে।
প্রতিক্রিয়া
স্টেশন মাস্টার আবুল খায়ের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, "ভুল পয়েন্ট সিগনালে গিয়ে ট্রেনটি ভুল লাইনে চলে যায়। ইঞ্জিন তুলতে বিশেষ রিলিফ ট্রেন আসছে; যাত্রীদের ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করছি।" প্ল্যাটফরমে অপেক্ষমাণ যাত্রী মজিবুর রহমান বলেন, "রাতে ঢাকায় জরুরি কাজ ছিল, এখন কখন যাব বুঝতে পারছি না।" রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিজানুর রহমান রাইজিংবিডিকে জানান, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
• দুর্ঘটনার সময়: ৮:৪৫ মি. শনিবার
• আটকে পড়া ট্রেন: অন্তত ১০টি
• যাত্রী ভোগান্তি: আনুমানিক ৬–৭ হাজার
• উদ্ধারকারী কর্মী: ৪০ জন টেকনিক্যাল স্টাফ, ২টি হেভি লিফট ক্রেন
• পূর্ববর্তী ৬ মাসে বাংলাদেশ রেলে লাইনচ্যুতির সংখ্যা (রেলওয়ে তথ্য): ১১
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ রেলে বারবার পয়েন্ট ত্রুটি ও দৃশ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতির কারণে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ রেল মন্ত্রণালয় ১৯৭০-এর দশকে স্থাপিত বেশির ভাগ পয়েন্ট মেশিন বদলানোর প্রকল্প নিলেও কাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে। ঘটনাচক্রে, একই দিন ভোরে ভারতের ঝাড়খণ্ডের চান্ডিল-নিমিধ সেকশনে দু’টি বিপরীতমুখী মালগাড়ির ২০টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়; সেখানে হতাহতের খবর না থাকলেও আপ-ডাউন উভয় লাইন বন্ধ হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার পুরোনো সিগন্যালিং ব্যবস্থাই এমন দুর্ঘটনার বড় কারণ।
এরপর কী
রেলওয়ে উদ্ধার দল প্রথমে ক্রেন দিয়ে ইঞ্জিন তুলে ট্র্যাক ঠিক করবেন, তারপর লাইনের সমতা পরীক্ষা করে ধীরে ধীরে আটকে থাকা ট্রেনগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ ভোর নাগাদ চলাচল جزভাগে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ করছে। যাত্রীদের জন্য বিকল্প বাসের ব্যবস্থা কিংবা টিকিট ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা এখনো আসেনি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা পড়বে বলে জানা গেছে, যার সুপারিশ অনুযায়ী পয়েন্টম্যান ও ডিউটি অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

