কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্ক্যানার দেড় ঘণ্টা চলেই থেমে গেল, নিরাপত্তা শঙ্কায় যাত্রীরা

কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্ক্যানার দেড় ঘণ্টা চলেই থেমে গেল, নিরাপত্তা শঙ্কায় যাত্রীরা

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে ৪ আগস্ট উদ্বোধন হওয়া লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ ব্র্যান্ডের ওই যন্ত্রটি স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল মাদক ও বিস্ফোরক প্রতিরোধ। কিন্তু জনবল ও কারিগরি জটিলতার কারণে তা এখনও চালু হয়নি বলে স্টেশন কর্তৃপক্ষ দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৫ হাজারের বেশি যাত্রী ব্যাগ তল্লাশি ছাড়াই প্ল্যাটফর্মে উঠছেন, যা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হওয়ার পর পর্যটন শহরটি নতুন রেলযোগাযোগে যুক্ত হয়। মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত জেলার স্টেশনটিতে চলতি বছর ৪ আগস্ট প্রথমবারের মতো আধুনিক ব্যাগেজ স্ক্যানার বসানো হয়। উদ্বোধনের দিনই স্থানীয় ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের জন্য পরীক্ষামূলক স্ক্যান করে মেশিনটি।

কিভাবে এই পর্যন্ত এলাম

উদ্বোধনের পর দুই ঘণ্টা চলার পর থেকেই যন্ত্রটি নীরব। স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই অস্থায়ী কর্মচারী দৈনিক আজাদীকে বলেছেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মী না থাকায় মেশিন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মেহেদী হাসান জানান, ‘জনবল সংকট ও কিছু কারিগরি সমন্বয় বাকি আছে।’ ফলে প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সব ফটকই এখন আগের মতো খোলা, যাত্রীদের লাগেজ শুধু চোখে দেখে ছাড়ছেন টিকিট পরীক্ষকেরা।

প্রতিক্রিয়া

স্ক্যানার বন্ধ দেখে অনেক যাত্রী নিজ উদ্যোগে ব্যাগ রাখলেও দায়িত্বরত কর্মীরা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকা ফেরত সরকারি কর্মকর্তা আলী হোসেন বলেন, ‘এখানে স্ক্যান না হলে রাজধানীতেও আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে।’ কক্সবাজারের নাগরিক সংগঠন ‘সচেতন নাগরিক কমিটি’র আহ্বায়ক ফারুক ইকবাল মন্তব্য করেন, ‘যন্ত্র বসিয়ে ছবি তুলে বন্ধ রাখা অর্থ ও নিরাপত্তা—দুটিরই অপচয়।’ চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের সুপার শাকিলা সুলতানা রইটার্সকে বলেন, ‘স্ক্যানার কেন বন্ধ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

এর গুরুত্ব কী

কক্সবাজার উপকূল মিয়ানমার থেকে ইয়াবা প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবেই পরিচিত। ভৌগোলিক সুবিধায় এখান থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে মাদক ছড়ানোর ইতিহাস রয়েছে। রেলপথ চালু হওয়ার পর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা স্টেশনে ২৪ ঘণ্টা স্ক্যানার সচল রাখার সুপারিশ করেন। বর্তমানে মেশিন অচল থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘ম্যানুয়াল চেক’ করতে চাইলে যাত্রীর বিরক্তি বাড়ে, না করলে নিরাপত্তা ফাঁক থেকে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• দৈনিক গড় যাত্রী: ৫,০০০+

• চলমান ট্রেন: ৪টি (ঢাকা ২, চট্টগ্রাম ২)

• স্ক্যানার মূল্য: প্রায় ১.২ কোটি টাকা (রেল মন্ত্রণালয় সূত্র)

• মেশিন সচল ছিল: মাত্র ২ ঘণ্টা

• প্রশিক্ষিত অপারেটর প্রয়োজন: ৬ জন, বর্তমান স্থায়ী নিয়োগ: ০

পরবর্তী পদক্ষেপ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন ফোনে জানান, স্ক্যানার চালাতে ছয়জন টেকনিশিয়ান ও তিনজন নিরাপত্তা সহকারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ‘১৫ দিনের মধ্যে’ যন্ত্রটি আবার চালু করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। ব্যর্থ হলে বিকল্প নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসানো হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

শেষ কথা

কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়ন যেমন গতি পাচ্ছে, তেমনই বাড়ছে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তি স্থাপন করে তা অকার্যকর রেখে দিলে শুধু যাত্রীর আস্থা নয়, রাষ্ট্রের সম্পদও অপচয় হয়। কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এই ‘আইকনিক’ স্টেশন সত্যিকারের নিরাপত্তা মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে।

More From Author

দুর্নীতি মামলায় নিজেকে ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ বলছেন টিউলিপ সিদ্দিক

দুঃস্বপ্নের হার পেরিয়ে এশিয়া কাপে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের কিশোরীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *