ইন্ডিয়ানায় ৩০ ফুটেরও বেশি লম্বা সূর্যমুখী, গিনেসে নাম লেখাতে আর মাত্র এক ধাপ

ইন্ডিয়ানায় ৩০ ফুটেরও বেশি লম্বা সূর্যমুখী, গিনেসে নাম লেখাতে আর মাত্র এক ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েইন শহরে আলেক্স বাবিচ নামের এক বাসিন্দা নিজের বাড়ির আঙিনায় ৩০ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার একটি সূর্যমুখী গাছ বড় করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘ক্লোভার’। ২০১৪ সালে জার্মানির গড়া ৩০ ফুট ১ ইঞ্চির বর্তমান গিনেস রেকর্ড অনানুষ্ঠানিকভাবে ইতিমধ্যেই ছাপিয়ে গেছে এই গাছ। এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পরিমাপ ও স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই সেই শিরোপা আলেক্স ও ক্লোভারের হাতে যেতে পারে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়, শহরের কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা পর্যন্ত আলেক্সকে কাঠবিড়াল ও ঝড় থেকে গাছটি রক্ষায় নানাভাবে সহায়তা করেছে।

কিভাবে এই পর্যন্ত এলাম

আলেক্স বাবিচ পেশায় একজন শখের বাগানপ্রেমী। গত বছরও তিনি একটি সূর্যমুখী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত গিয়ে থেমে যেতে হয়। হতাশ না হয়ে এ বছরের বসন্তে নতুন করে বীজ রোপণ করেন। বাগানে অতিরিক্ত কম্পোস্ট, নিয়মিত জল দেওয়া, বায়ু ও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি বেষ্টনী—সবকিছু তিনি করেন ঘড়ি ধরে। গাছটি যখন পাঁচ-ছয় ফুট, তখনই তিনি বুঝতে পারেন এটি ব্যতিক্রমী দ্রুত বাড়ছে। জুনের শেষে উচ্চতা ২৬ ফুট ছুঁতেই সেটি যুক্তরাষ্ট্রের আগের রেকর্ড ভাঙে। তাতেই থামেনি; জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে আরও চার ফুটের বেশি বাড়ে ক্লোভার, যা তাকে বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

• বর্তমান উচ্চতা: ৩০ ফুট ৭ ইঞ্চি (প্রায় ৯.৩৪ মিটার)

• বিদ্যমান গিনেস রেকর্ড: ৩০ ফুট ১ ইঞ্চি, গড়েছেন জার্মানির হ্যানস-পিটার শিফ, ২০১৪ সালে

• স্বাভাবিক সূর্যমুখীর উচ্চতা: ৬–১০ ফুট

• রাজ্য রেকর্ড ভাঙার সময়: ২৬ ফুট ৮ ইঞ্চিতে পৌঁছানো, জুন ২০২3

• বয়স: রোপণের পর থেকে প্রায় ৪ মাস

• পরিমাপ দল: ‘ব্লুম’ তথ্যচিত্রের নির্মাতা ও ফোর্ট ওয়েইন সিটি ইনস্পেকশন টিম

প্রতিক্রিয়া

ফোর্ট ওয়েইনের মেয়র অফিস এক বিবৃতিতে বলে, ‘এ ধরনের কীর্তি শহরকে অন্যভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়।’ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিনই বাবিচের বাড়ির সামনে ছবি তুলতে ভিড় করছেন। তরুণ বোটানি শিক্ষার্থী মিয়া স্কট বলেন, ‘বইয়ে পড়া অন্য কথা, চোখের সামনে এমন বিশাল সূর্যমুখী দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘#CloverTheSunflower’ হ্যাশট্যাগে ছবি আর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সবাই খুশি না; কিছু প্রতিবেশী ট্র্যাফিক এবং ভিড় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বাবিচ আশ্বস্ত করেছেন, আসন্ন পরিমাপ শেষ হলে সাময়িক বেড়া তুলে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করবেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একজন সার্টিফায়েড বিচারক চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে সাইট ভিজিট করবেন। তাঁরা গাছের গোড়া থেকে শীর্ষ পর্যন্ত তিনবার পরিমাপ করবেন এবং গড় উচ্চতা নথিভুক্ত করবেন। এরপর ছবিসহ সব নথি লন্ডনের প্রধান কার্যালয়ে যাবে, যেখানে কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। স্বীকৃতি মিললে বাবিচ একটি অনলাইন চ্যারিটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সূর্যমুখী বীজ বিক্রি করে স্থানীয় স্কুলের বাগানক্লাবগুলোকে অনুদান দিতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘রেকর্ড ভাঙা যেমন আনন্দের, তেমনি অন্যদের মধ্যে বাগানপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়াটাই আসল বিজয়।’ meanwhile, গাছটি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে; তাই অবশেষে ৩১ ফুট ছুঁতে পারে কি না, সেটিও দেখার অপেক্ষা।

More From Author

বলিউডে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছেন রাশা থাডানি

এক বছরে শিক্ষায় স্থবিরতা: কমিশন গড়া না, বাজেটও বাড়েনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *